ইন্টারনেট অফ থিংগস | Internet of Things - IoT


ইন্টারনেট অফ থিংগস কি ?
'ইন্টারনেট অফ থিংগস' ( Internet of Things ) হল এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস গুলো একে অপরের সাথে নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে, অর্থাৎ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সব বস্তুই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে। যেমনঃ লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াসিং মেশিন, রাইস কুকার, কফি মেকার, চেয়ার, টেবিল, ইলেকট্রিক জুতা, মানিব্যাগ, বালিশ, মোবাইল, কম্পিউটার, পানির বোতল, ব্যাগ ইত্যাদি সব কিছুই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে এবং আপনি দূর থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
এবার একটু বিস্তারিত আলোচনায় আসি....../

ইন্টারনেট অফ থিংগস এর গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তাঃ
আপনি প্রশ্ন করতে পরেন যে ইন্টারনেট অফ থিংগস কি এমন জিনিস বা এর গুরুত্ব কতটুকু?
আসুন একটু ফ্লাশব্যাকে যায়, শুরু দিকে মোবাইল গুলতে যেমনঃ নকেয়া ১১০০ বা এই ধরনের সেটগুলতে কোন ইন্টারনেট ছিলনা, ব্লুটোথ ছিলনা, ওয়াইফাই ছিলনা। তখন একটা মোবাইলের সাথে আরেকটা মোবাইলের কোন কানেকশন ছিলনা। 
তারপর একটা সময় আসল যখন একটা মোবাইলের সাথে অন্য আরেকটা মোবাইলের কানেক্ট করা যায়, মোবাইলের সাথে কম্পিউটারের কানেক্ট করা যায়, 
এখন আমরা একটা ডিভাইস দিয়ে একাধিক ডিভাইসের সাথে সংযোগ করতে পারি। যেমন মোবাইলের ব্লুটুথ বা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যেম পিসির সাথে কানেক্ট করা যায় আবার মোবাইল দিয়ে ইনফ্যারেড সেন্সরের মাধ্যেম এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।  কিন্তু সব কিছুই ইনফ্যারেড সেন্সরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আপনি যদি বাসার বাইরে থেকে মোবাইল দিয়ে বাসার এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে আপনি দরকার ইন্টারনেট। আর এক্ষেত্রে আপনার এসির দরকার একটা ইউনিক আইপি এড্রেস ( IP Address ). তাহলে আপনার মোবাইল এসির আইপি এড্রেস সম্পর্কে জানবে আবার আপনার বাসার এসি মোবাইলের আইপি এড্রেস সম্পর্কে জানবে। 

আসুন আরেকটা উদাহরণ দেখি, ধরুন আপনি যখন বাসায় ঢুকবেন তখন আপনার বাসার এসি অটোমেটিক অন হবে আবার যখন বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন তখন অটোমেটিক এসি অফ হয়ে যাবে, বা আপনি যখন বাসায় ঢুকবেন তখন আপনার বাসার লাইট অটোমেটিক অন হবে আবার যখন বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন তখন অটোমেটিক লাইট অফ হয়ে যাবে, আর এক্ষেত্রেই দরকার 'ইন্টারনেট অফ থিংগস' । আর যখন অনেকগুলো সেন্সর এক সাথে কানেক্ট হবে তখন বিশাল পরিমাণ ডেটার সৃষ্টি হবে, আর এই ডেটা গুলো সেভ বা সংরক্ষিত থাকবে সার্ভারে। আর এই বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রসেস করবে বিগ ডেটা। আপনি যদি বিগ ডেটা সম্পর্কে না জানেন তাহলে বিগ ডেটা নিয়ে আমার লেখা এই আর্টিকেলটা পড়তে পারেন বিগ ডেটা | Big Data

ভবিষ্যতে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কিছুই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে, যেমনঃ লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াসিং মেশিন, রাইস কুকার, কফি মেকার, চেয়ার, টেবিল, ইলেকট্রিক জুতা, মানিব্যাগ, বালিশ, মোবাইল, কম্পিউটার, পানির বোতল, ব্যাগ ইত্যাদি সব কিছুই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে। আর এই সব কিছুর জন্য আলদা আলদা ইউনিক আইপি এড্রেস দরকার। আর জন্য দরকার ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন ৬ (Internet Protocol version 6 - ipv6).
আর আমরা এখন ব্যবহার করছি ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন 4 (Internet Protocol version 4 - ipv4).

ইন্টারনেট অফ থিংগস | Internet of Things - IoT

'ইন্টারনেট অফ থিংগস' এর প্রয়োজনীয়তা বা উপকারিতা অনেক, উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবেনা। আর আমি যখন 'ইন্টারনেট অফ থিংগস' নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করি তখন বেশিরভাগ ডকুমেন্টেই এর পজেটিভিটি নিয়ে আলোচনা করেছে। 
কিন্তু এর নেগেটিভ দিক নিয়ে হাতে গোনা দুই একটা আর্টিকেল ছাড়া তেমন কোন আর্টিকেল পায়নি, আসুন এর নেগেটিভ দিকটা নিয়ে একটু আলোচনা করি। 

ইন্টারনেট অফ থিংগস এর অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিকঃ

ইন্টারনেট অফ থিংগস এর যেমন অনেক উপকার দিক আছে তেমনি তাঁর এর বিশাল পরিমাণ ক্ষতিকর দিক বা রিস্ক আছে।
যেমন আপনার কম্পিউটারে অনেক গুরুত্বপূর্ন ডেটা আছে  আর আপনি চান না যে অন্য কেউ এই ডেটা সম্পর্কে জানুক। কিন্তু কেউ যদি আপনার মেশিন হ্যাক করতে চায় এবং হ্যাক করে ফেলে তাহলে আপনার গুরুত্বপূর্ন ডেটা কিন্তু আপনার আর থাকছেনা ! 
এখন আপনি হয়তো বলতে পারেন যে, না আমার মেশিন কেউ হ্যাক করতে পারবে না, কারণ আমার মেশিন পৃথিবীর শ্রেষ্ট ফায়ারওয়াল দ্বারা সুরক্ষিত। ওকে মানলাম আপনার মেশিল পৃথিবীর শ্রেষ্ট ফায়ারওয়াল দ্বারা সুরক্ষিত এবং কেউ আপনার মেশিন হ্যাক করতে পারবে না। কিন্তু কেউ যদি আপনার এসি হ্যাক করে তাহলে সে তাঁর ইচ্ছামত আপনার বাসার এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ! আর আপনার এসি যেকোন হ্যাকার হ্যাক করতে পারবে কারণ এসিতে ফায়ারওয়াল নেই।
আপনি বলতে পারেন যে আমার এসি হ্যাক হয়েছে তো কি হয়েছে আমার ল্যাপটপ তো আর হ্যাক হয়নি। 
ভাই থামেন, আপনার এসি আর আপনার ল্যাপটপ দুইটাই একই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত।
আর ফায়ারওয়াল আউট সাইড নেটওয়ার্কে কাজ করে ইনসাইড নেটওয়ার্কে নয়, তবে আপনি চাইলে ইনসাইড নেটওয়ার্কে ফায়ারওয়াল কনফিগার করতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি শুধু আউট সাইড নেটওয়ার্কে ফায়ারওয়াল কিনফিগার করেন আর কেউ যদি আপনার এসি হ্যাক করতে পারে তাহলে সে আপনার ল্যাপটপ ও হ্যাক করতে পারবে ! 
আর এখানেই ইন্টারনেট অফ থিংগস নিয়ে ভয় ! 

একটা কথা মনে রাখবেন অনলাইনে কোন কিছুই সিকিউরড না !
আপনি যত শক্তিশালী সিকিউরিটি ইউজ করেন না কেন, পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে কোন না কোন হ্যাকার বসে আছে শক্তিশালী সিকিউরিটি ভাঙ্গার জন্য ! 


~ First They Will Laugh, Then They Will Copy.

Alhamdulillah, I Can & I Will, Believe That.../

Share this

Related Posts

Previous
Next Post »

1 comments:

comments